২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাপী মানুষ এ সময়ে ঘরে বসেই সুফল উপভোগ করছে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্ব যখন স্থবির, প্রযুক্তিই মানুষের ত্রাতা হয়ে পাশে এসেছে।
লকডাউনের এ সময়ে জীবন-জীবিকার ভারসাম্য ঠিক রাখতে যোগযোগপ্রযুক্তি গৃহবন্দি মানুষকে সহায়তা করেছে। করোনা মহামারির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের থেকে ৬৬ শতাংশ বেশি। করোনা মহামারি মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে নানামুখী কৌশলসহ ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। পরবর্তিতে সংশোধনকৃত বাজেটে যার পরিমাণ ১ হাজার ৩১ কোটি টাকা দাঁড়ায়।
৫জি নেটওয়ার্কের পথে দেশ
বিশ্বে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশে ৫জি চালু করতে প্রাথমিকভাবে ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজ ও ৩৩০০-৩৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। বর্তমান সরকার চলতি বছরে দেশে ৫জি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তাঁর বক্তৃতায়। এর আগে বিটিআরসি দ্রুত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রাহকদের উচ্চতর ডাটারেট ও মোবিলিটি চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে গত মার্চ এর ৮ তারিখ ১৮০০-২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলাম সম্পন্ন করেন।
কর অব্যাহতির ঘোষণা আইটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য
নতুন বাজেটে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইটি ফ্রিল্যান্সিং পেশা থেকে অর্জিত আয়ে কর অব্যাহতির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। বর্তমান আওয়ামী সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত খাতকে সম্প্রসারিত করার প্রয়োজন বলে মনে করেন। সিস্টেম ইন্টেগ্রেশন, ক্লাউড সার্ভিস, ই-লার্নিং প্ল্যাটফরম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস, ই-বুক পাবলিকেশন্স এবং আইটি ফ্রিল্যান্সিং সেবা হতে অর্জিত আয়কে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব পেশ করছি। এর পাশাপাশি কতিপয় আইটি হার্ডওয়্যার বাংলাদেশে উৎপাদন করলে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছর কর অব্যাহিত প্রদানের প্রস্তাব করছি।’
ই-লার্নিং সার্ভিস
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসাবে ই-বুক এবং ই-লার্নিংকে ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবেল সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
ই-কোর্টে পরিণত হবে আদালত
ই-কোর্টে পরিণত করা হবে দেশের প্রতিটি আদালতকে। ওয়েবসাইটে অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার শুনানির তারিখ, বর্তমান অবস্থা, মামলার ফলাফল ও পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় দেশের সকল বিচারব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা হবে। সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সকল অধস্তন আদালতের সব কার্যক্রমকে অটোমেশন এবং নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
খরচ বাড়বে মোবাইল লেনদেনে
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে।
বাজেট প্রস্তাবে তালিকাভুক্ত এমএফএস কোম্পানির ক্ষেত্রে পূর্বের কর হার বাড়িয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। আগে যা সাড়ে ৩২ শতাংশ ছিল। আর তালিকাভুক্তির বাহিরে কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে করের পরিমাণ ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। এটাও আগে সাড়ে ৩২ শতাংশ ছিল। দেশে এখন বিকাশ, রকেট, নগদ, শিওরক্যাশ, ইউক্যাশ ও এমক্যাশসহ মোট ১৫টি কোম্পানি এমএফএস সেবার আওতায় রয়েছে।
দেশেীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি
দেশে উৎপাদিত হ্যান্ডসেট তৈরিতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বাড়িয়ে আরও ২ বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোবাইলের বেশিরভাগই এই দেশে উৎপাদন ও সংযোজন হয়। সে কারণে স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বর্তমানে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও দুই বছরের জন্য বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দাম কমবে কম্পিউটারের
বর্তমান বাজেটে কম্পিউটার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত বেশ কিছু কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাজেট পাশ হলে দেশে উৎপাদিত কম্পিউটারের দাম কমবে। একইভাবে ব্র্যান্ডের পিসির তুলনায় একই মানের ক্লোন পিসির দাম কিছুটা কমতে পারে। এর পাশাপাশি মোবাইলের মতো বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ও কম্পিউটার তৈরির কারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মোবাইল কল ও ইন্টারনেট খরচ বাড়বে
যার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কমানো হয়নি পূর্বের ২০০ টাকা সিমট্যাক্সও। মোবাইলে ১০০ টাকার কথা বলায় ৩৩ টাকা ২৫ পয়সা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রায় ২২ টাকা খরচ অপরিবর্তিত থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.