বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

তথ্যপ্রযুক্তি
বর্তমান সময়ে বিকাশ একাউন্ট নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন কারণে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার দরকার হয়। তাই আজকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম নিয়ে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করব।
তো চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক।
বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার নিয়ম
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম কানুন আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু অনেকেই আবার বিভিন্ন প্রয়োজনে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দিতে চান।
বিভিন্ন কারণে আমাদের বিকাশ একাউন্ট ডিলিট করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন, আপনার সিমে আগে থেকেই বিকাশ একাউন্ট খোলা থাকলে।একটি ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে একটি মাত্র বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় তাই পুরাতন একাউন্ট বন্ধ করে নতুন একাউন্ট খুলতে, নিরাপত্তা জনিত কোনো সমস্যা থাকলে, বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে, আর বিকাশ একাউন্টা ব্যবহার করতে না চাইলে।
উপরের কারণগুলো ছাড়াও আরো অনেক কারণ থাকতে পারে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য। তাই আজকে আমরা সহজ পদ্ধতিতে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানব।
আমরা এই বিষয় সম্পর্কে বিকাশ হেল্প লাইনে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদেরকে যেভাবে জানিয়েছেন আমরা আপনাদেরকে ঠিক সেভাবেই নিয়মকানুনগুলো জানানোর চেষ্টা করবো।
বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে যা যা লাগবে
আপনার বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য হতে হবে। যার একাউন্ট তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড লাগবে।
ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন যে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে কি কি প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে সেই বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য (০) হতে হবে। ব্যালেন্সে কোন টাকা রাখা যাবে না।
যদি আপনার বিকাশ একাউন্টে ব্যালেন্স থাকে, তাহলে আগে এটিকে শুন্য করে নিবেন। অর্থাৎ যে টাকা আছে সেগুলো কোনো ভাবে খরচ করে ফেলুন।
এখন আপনার ব্যালেন্স শূন্য হলো। তারমানে আপনি আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য একধাপ এগিয়ে গেলেন। এরপর যার নামে একাউন্ট খোলা তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর মূল কপি নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে।
অবশ্যই যার ন্যাশনাল আইডি কার্ড অর্থাৎ যার নামে একাউন্ট খোলা তাকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে৷ সাথে সিমকার্ডটি সহ মোবাইল নিয়ে যাবেন। আপনার সিম কার্ড প্রয়োজন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে সাথে করে সিম কার্ডটি নিয়ে যাওয়া ভালো।
গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখে মালিকানা নিশ্চিত করবেন এবং আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এছাড়া আপনার আর বেশি কিছু করার প্রয়োজন হবে না। এই হলো বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার প্রক্রিয়া। আশাকরি বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন।
এবার চলুন, এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় নিশ্চিত হয়ে নেই।
বিকাশ একাউন্ট এর ব্যালেন্স শূন্য না হলে?
আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে বিকাশ একটা একাউন্ট বন্ধ করতে হলে একাউন্টের ব্যালেন্স ০ হতে হবে। কিন্তু আপনার একাউন্টে যদি ব্যালেন্স শূন্য না হয় অর্থাৎ আপনার একাউন্টাে ব্যালেন্স থাকে তখন কি করবেন?
এজন্য আমরা আপনাকে ছোট্ট একটি টিপস দিচ্ছি। প্রথমে আপনার ব্যালেন্সটা চেক করে নিন। দেখুন আপনার একাউন্টে ব্যালেন্স কত আছে। আপনি চাইলে ওই টাকা অন্য কারও একাউন্টে সেন্ড মানি করে দিতে পারেন। ক্যাশ আউট বা মোবাইল রিচার্জ করেও ব্যালেন্সের টাকা খরচ করে ফেলতে পারেন।
অর্থাৎ যেকোন ভাবে আপনি আপনার একাউন্টের টাকা খরচ করে ব্যালেন্স শূন্য করে ফেলবেন।
বিকাশ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে কি করবেন?
বিকাশের পিন নাম্বার ভুলে গেলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স শূন্য করা সম্ভব হবে না। যেহেতু একাউন্টের টাকা খরচ করতে হলে পিন নাম্বার লাগবে, এই অবস্থায় কি করবেন?
খুবই সহজ, চিন্তার কোন কারণ নেই। এক্ষেত্রে আমরা আপনাদেরকে ছোট্ট একটি টিপস দিচ্ছি।
প্রথমে আপনার বিকাশ পিন রিসেট বা পরিবর্তন করে নিন। এরপর রিসেট করা পিন ব্যবহার করে বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য করে নিন।
বিকাশের ব্যালেন্স কেন শূন্য হতে হবে?
কারণ যিনি বিকাশ একাউন্টের মালিক তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা তার। সেই টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া বিকাশ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই ওই টাকা খরচ করার আগ পর্যন্ত বিকাশ চাইলেই ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারবে না।
সেজন্য ওই টাকা খরচ করার জন্য বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য রাখতে বলা হয়ে থাকে।
ব্যালেন্স শূন্য থাকার মানে হচ্ছে, বিকাশ একাউন্টের মালিক তার টাকা পুরোপুরি খরচ করে ফেলেছেন। সে ক্ষেত্রে বিকাশ কর্তৃপক্ষের কোন দায়ভার থাকবে না।
আপনার সিমে আগে থেকেই বিকাশ একাউন্ট খোলা থাকলে করনীয়
অনেকেই এই সমস্যায় পড়ে থাকে। সিম কিনে বিকাশ একাউন্ট খুলতে গেলেন। একাউন্ট খুলতে গিয়ে দেখলেন যে, সেখানে আগে থেকেই বিকাশ একাউন্ট খোলা রয়েছে। অর্থাৎ আপনি চাইলেই আপনার সিমে নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন না।
বিষয়টি একটু বিব্রতকর, তবে মুশকিল নয়। চলুন, এই ব্যাপারে কি করনীয় সেই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেই।
এক্ষেত্রে আপনার দুইটি বিষয় জেনে রাখতে হবে। তা হল- সর্বশেষ লেনদেনের একাউন্ট ব্যালেন্স।
কীভাবে সর্বশেষ লেনদেন সম্পর্কে জানবেন?
যেহেতু বিকাশ একাউন্ট আপনার নিজের নয় সেহেতু সর্বশেষ লেনদেন জানা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি ছোট্ট একটি টেকনিক করতে পারেন।
ঐ বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১০-২০ টাকা সেন্ড মানি করুন অথবা বিকাশ এজেন্ট থেকে ৫০ টাকা ক্যাশ ইন করুন। এটা করার পর আপনি কিন্তু জানতে পেরেছেন যে সর্বশেষ লেনদেন কত অর্থাৎ আপনি যেই টাকা ঢুকাবেন সেটাই সর্বশেষ লেনদেন।
একাউন্টের ব্যালেন্স
এরপর হচ্ছে একাউন্টের ব্যালেন্স। একাউন্ট এর ব্যালেন্স কত টাকা আছে সেটাও আপনার জানার কথা না। কিন্তু যখন আপনি ঐ একাউন্টে সেন্ড মানি অথবা ক্যাশ ইন করবেন তখন একটি ম্যাসেজ আসবে। ওই মেসেজে একাউন্টের ব্যালেন্স দেখাবে। অর্থাৎ আপনি সেখান থেকে জানতে পারবেন আপনার একাউন্টে কত টাকা ব্যালেন্স আছে।
এরপর সিম কার্ডটি নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে থাকা কর্মকর্তা ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে আপনার নামে করে দিবেন।
আর পূর্ববর্তী অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স আপনার নতুন একাউন্টে যুক্ত হয়ে যাবে।
বিকাশের নাম্বার পরিবর্তন
আপনি হয়তো আপনার একটা সিমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন, এখন আপনি যাচ্ছেন আপনার অন্য সিমে বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করবেন। কিন্তু একটি ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে একটি মাত্র একাউন্ট খোলা যায়। সে ক্ষেত্রে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে আর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না।
এক্ষেত্রে আপনি উপরের নিয়ম অনুসরণ করে আপনার বর্তমান বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দিন।
একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেলে আপনি অন্য যেকোন নাম্বারে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন।
পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহকসেবার ঠিকানা কীভাবে জানবেন?
যেকোন সহযোগিতা পেতে ও পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহক সেবার ঠিকানা জানতে বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭ এই নাম্বারে কল করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.