freelancer

ফ্রিল্যান্সারদের নগদ প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হয়েছে

তথ্যপ্রযুক্তি বাংলাদেশ
ফ্রিল্যান্সারদেরকে নগদ সহায়তা দিতে সরকার একটি নীতিগত ভিত্তি কাঠামো তৈরিতে চেষ্টা করে যাচ্ছিল আরও দুই বছর আগ হতে।
নীতিগত এবং পদ্ধতিগত নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও অবশেষে ব্যক্তি পর্যায় এর ফ্রিল্যান্সাররা অল্প সময়ের মধ্যে ১০ শতাংশ করে নগদ সহায়তা অথবা ভর্তুকির সুবিধা পেতে চলেছেন। অর্থমন্ত্রণালয় হতে এবার এ বিষয়ে সম্মতির সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানিতে প্রায় ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা অথবা ভর্তুকি দেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দেয়। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক আউটসোর্স গুলোকে ক্যাশ ইনসেনটিভ দেয়ার তালিকায় রাখা হলেও এই সহায়তা অথবা ভর্তুকি ব্যক্তি পর্যায়ে আউটসোর্সিং করা ফ্রিল্যান্সারগণ পাবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

 

তখনকার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছিলনে, এই সহায়তা অথবা ভর্তুকি ব্যক্তি পর্যায়ে আউটসোর্সিং করা ফ্রিল্যান্সারগণ যেন পান তা দেখা হচ্ছে।

 

এরপর ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারগণ অফিস, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকা এবং ফ্রিল্যান্সিং আয়ের প্রমাণ, সেই সাথে অনিয়ম হলে চিহ্নিত করা ইত্যাদি ইস্যুগুলোতে এই সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়াটি ধীরে হয়ে যায়।

 

২০২০ সালের অক্টোবরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সারগণদের জন্য এই ১০ শতাংশ প্রণোদনা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকেও চিঠি দেন।

 

নভেম্বরে এসে তিনি ফ্রিল্যান্সাররা যেন তাদের আইডি হতেই ব্যাংকে তথ্য দিতে পারে এবং তখন ১০ শতাংশ ক্যাশ প্রণোদনা পায় সে দাবিটিও রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

 

বিষয়টিতে এবার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান। এরপর এ বিষয়টি একটি কমিটি করে দেন অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয়ে সুপারিশও পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও। শেষে কমিটি ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা যায়।

 

এই সুবিধা পেতে ফ্রিল্যান্সারদেরকে অবশ্যই প্রমাণ দাখিল করতে হবে যে তারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমেই এই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছেন। এর একটি কাঠামো এখনই তৈরি হচ্ছে। এরপর অর্থমন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করবে।

 

এরআগে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ফ্রিল্যান্সাররা যেনো সহজে নিজেদের উপার্জিত অর্থগুলো পেতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রমেরও শুভ উদ্বোধন করে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তখন তিনি বলেছিলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মানুষ অর্থ উপার্জন করতে পারছে ঘরে বসে, গ্রামে বসে। কিন্তু এর কোনও প্রকৃতপক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিলো না। আর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিটা না থাকার কারণে যে তারা অর্থ উপার্জন করছে, অনেক সময় তাদের নানারকম প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয় তাছাড়া ব্যাংকেও নানা প্রশ্ন করে।’

 

‘এটা নিয়ে অবশ্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও আলোচনা করেছি, অর্থ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছি যেন এই অসুবিধাটা আর কোনো ভাবেই না হয় সে ব্যবস্থা তারা ইতোমধ্যেই নেবে’ বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি আরও বলেন ‘আজকে এই ফ্রিল্যান্সারদের আইডি কার্ড প্রদানের জন্য একটা ওয়েব পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে সকল ফ্রিল্যান্সাগণ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে আইডি কার্ড সংগ্রহও করতে পারবে। এতে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক পরিচিতি তৈরির পাশপাশি ব্যাংক ঋণ নিতে পারবে এবং তাদের ক্ষমতায়নে সহযোগিতাও করতে পারবে।’

 

‘এটাও একটা কাজ বলা যায়। এটাও এক ধরনের চাকরিও। কিন্তু সেটা হচ্ছে নিজেই নিজের বস হওয়া এবং শুধু বসই না, আরও অনেকের কর্মসংস্থান এর সুযোগও করে দেওয়া, অন্যের বসও হওয়া।’ বলছিলেন তিনি।

 

সেই প্রায় ২০১৮ সালেই ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট অনুয়াযীও এই খাতে বিশ্বের মোট বাজারের প্রায় ১৬ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে বলে বলা হয়েছিলো।

 

খাত হিসেবে ফ্রিল্যার্ন্সিংকে খুব বেশ গুরুত্বও দিয়ে আসছে সরকার। ২০ হাজার মহিলাসহ ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরিতেও দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ১০ হাজার  বিশেষায়িত ভাবে আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সার তৈরির এডভান্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগও হয়েছে। এছাড়া নানা ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.