নগদ টাকা ব্যবসা

নগদ পুঁজি ছাড়াই কয়েকটি ব্যবসা যেভাবে শুরু করবেন

বাণিজ্য শিক্ষা
মানুষ পরনির্ভরশীল থাকতে চায় না। মানুষ আত্মনির্ভরশীল হতে চায়। এটি মানুষের স্বভাবজাত চরিত্র বলা যায়। কিন্তু আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করা। আর এই কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে প্রয়োজন হয় অসীম ধৈর্য এবং পরিশ্রম।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষের ধারণা, কর্মসংস্থান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুরু করতে অনেক টাকার হয়তো প্রয়োজন হয়। আসলে মানুষের এই ধারণা একেবারেই কোনো ভাবে  সঠিক নয়। কারণ, পৃথিবীতে অসংখ্য ব্যবসা রয়েছে যেগুলো নগদ টাকা বিনিয়োগ ছাড়াই শুরু করা সম্ভব। আজকে আমি কিছু ব্যবসায়ের ধারণা দেব, যেগুলো খুব সহজে টাকা বিনিয়োগ ছাড়াই শুরু করতে পারবেন।
ব্যবসায় শুরু করতে হলে যেসকল বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ
০১. পরিকল্পনা
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুরু করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন। যদি আপনিও ব্যবসায় শুরু করতে চান তাহলে সবার আগে খবই একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করুন। যেখানে ব্যবসায়ের সকল ধরনের খুঁটিনাটি বিষয়ের পূর্ণ আলোচনা থাকবে।

 

০২. বিজনেস লাইসেন্স
প্রতিটি দেশে ব্যবসায় শুরু করতে হলে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। তেমনি আমাদের দেশেও ব্যবসায়ের ধরন অনুযায়ী বৈধ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।

 

০৩. বাজারজাতকরন বা মার্কেটিং
প্রতিটি ব্যবসায় পরিচালিত হয় অর্থের দ্বারা। আর এই অর্থ উপার্জন সম্ভব হয় প্রতিষ্ঠানের পণ্য অথবা সেবা গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সঠিক বাজারজাতকরন মানে মার্কেটিং এর ওপর।

 

০৪. উপকরণ
ব্যবসায় শুরু করতে উপকরণ প্রয়োজন। তবে সকল ব্যবসায় উপকরণ লাগে এই ধারণা সঠিক নয়। কিছু ব্যবসা রয়েছে যেগুলো সামান্য কিছু উপকরণ নিয়েই শুরু করা যায়। আবার কিছু ব্যবসা রয়েছে যেগুলো শুরু করতে গেলে কোনো প্রকার উপকরণের প্রয়োজন হয় না। আর এই সকল ব্যবসায় সম্পর্কে নিচে আলোচনা করবো।

 

০৫. পণ্য
একটি ব্যবসায়ের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে পণ্য অথবা সেবা। এই পণ্য অথবা সেবা গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমেই প্রতিটি ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবসায়ের লভ্যাংশ উপার্জন সম্ভব হয়। আর এই লভ্যাংশের দ্বারা প্রতিটি ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে।

 

নিজের তৈরি পণ্যের ব্যবসা:
টাকা ছাড়া ব্যবসা শুরু করা যায় না এটি শুধু মাত্র অলস মানুষেরই বাণী। কারণ, অসংখ্য ব্যবসায় রয়েছে যেগুলো আপনি চাইলেই শুরু করতে পারেন। আর যদি আপনি একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে তো আর কথাই নেই।

 

ধরুন, আপনার ভাল চিত্রাঙ্কনে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি যদি চান যে আপনার চিত্রকর্ম পৃথিবীর মানুষ দেখুক ও বিনিময়ে টাকা উপার্জন হোক। তাহলে আর কোনো ভাবনা নেই। চাইলেই শুরু করতে পারেন নিজের ব্যবসায় এই ধরনের ব্যবসা। ভাবছেন ব্যবসায় শুরু করার জন্য টাকা কোথায় পাবেন? চিন্তা নেই এই আধুনিক পৃথিবী আপনার মতো সৃষ্টিশীল মানুষদের জন্য খুলে দিয়েছে অনেক সম্ভাবনার দরজা।

 

আপনি চাইলেই আপনার চিত্রকর্ম কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই আমাজন এবং ইবে সহ আরও অসংখ্য অনলাইন দোকানে বিক্রিও করতে পারেন। এভাবে লাভ করতে পারেন প্রচুর অর্থও। খুব সহজ, তাইনা? তাহলে আর দেরি কিসের শুরু করে দিন আপনার স্বপ্নের ব্যবসা।
কন্টেন্ট সরবরাহ:
আজকের আধুনিক পৃথিবীতে যোগাযোগ খুবই সহজ। মিনিটেই মানুষ পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছে। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের কর্মক্ষেত্রের আকারও। এই কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধির পেছনে কাজ করে যাচ্ছে অনেকগুলো অনলাইন মার্কেট প্লেস। আর এই অনলাইন মার্কেট প্লেসের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ফাইবার।
এখানে কন্টেন্ট রাইটার, ফটোগ্রাফার  এবং শিল্পীদের জন্য খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার দ্বার। এখানে আপনার কন্টেন্ট সাজিয়ে রাখতে পারেন। প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা ঢু মারেন এই সাইটে। বিক্রি হয় অজস্র পণ্য। এভাবে আপনিও বিক্রি করতে পারেন আপনার কন্টেন্ট অথবা পণ্য, কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই।
মেরামতকরণ ব্যবসা:
বিনিয়োগ ছাড়া আরও একটি ব্যবসায় হচ্ছে মেরামতকরণ ব্যবসা। খাটি বাংলায় আমরা বলে থাকি মিস্ত্রি। যদি আপনারও একরকম কোনো দক্ষতা থাকে তাহলে বসে না থেকে শুরু করে দিন পুঁজিহীন এই ব্যবসায়। আর যদি দক্ষতা না থাকে তাহলেও কোনো দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
আপনার জন্যও রয়েছে আরও একটি আইডিয়া। এক্ষেত্রে আপনি কয়েক জন মিস্ত্রীর সঙ্গেও চুক্তির মাধ্যমে একটি মেরামতকরণ প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন। আপনার এই প্রতিষ্ঠানে আপনি একজন মিডিয়া হিসেবে কাজ করবেন। কাজ পেলে মিস্ত্রী দিয়ে সম্পন্ন করে দেবেন। কাজ শেষে মিস্ত্রীর প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করে দেবেন ও বাকি টাকা আপনার লাভ। ভালো লাগলে আপনিও শুরু করতে পারেন পুঁজি ছাড়া এই ব্যবসা।
কনসালটিং ফার্ম:
অসংখ্য চাকুরীজীবী রয়েছে যারা উদ্যোক্তা হতে চায়। এদের উদ্দেশ্য থাকে কিছু বছর প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা অর্জন করে শুরু করবেন নিজেরই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। যদি আপনারও এরকম মনোবাসনা থাকে তাহলে আপনার জন্যও রয়েছে একটি নগদ পুঁজিহীন ব্যবসা আইডিয়া। এই আইডিয়াটি হচ্ছে, কনসালটিং ফার্ম অথবা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়ে অন্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সাহায্য করে দিতে পারেন। বিনিময়ে উপার্জন করতে পারবেন প্রচুর পরিমাণে অর্থ। এই ব্যবসায় বিজ্ঞাপন ছাড়া তেমন কোনো অর্থেরও প্রয়োজন হয় না।
মাইক্রো এন্টারপ্রেনিউরশীপ:
আজকের পৃথিবী মানুষের জন্য এতটাই সহায়ক হয়ে উঠেছে যে যদি আপনার সামান্য কোনো দক্ষতাও থেকে থাকে তাহলে আপনিও পারবেন দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করতে। যদি আপনি ড্রাইভিং জানেন তাহলে আপনি উবার, পাঠাও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। এখান থেকে অর্জিত টাকা দিয়ে পরবর্তীতে নিজেই কিনতে পারেন নিজেরই গাড়ি।
আবার ধরুন আপনার একটি বড় বাড়ি রয়েছে। কিন্তু ব্যবসা শুরু করার মতো টাকাি নেই। এমতাবস্থায় আপনি কিছু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সন্ধান করতে পারেন। এই সকল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চুক্তিও করতে পারেন যে আপনি নগদ বিনিয়োগের বিপরীতে আপনার একটি রুম অথবা বাড়ি কারখানা তৈরির জন্য দিতে পারবে। ফলে নগদ বিনিয়োগের আর প্রয়োজন হলো না। অপরদিকে ব্যবসাটিও শুরু করতে পারলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.