কামরাঙা কখন অমৃত কখন বিষ

স্বাস্থ্য

কামরাঙা টক জাতীয় ফল। টক জাতীয় এই ফলে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে এবং এতে ক্যালরিও কম নেই। কিন্তু কারো কারোর জন্য কামরাঙা ক্ষতির কারন হতে পারে। অথবা নিয়ম না মেনে খেলে উপকারের পরিবর্তে অপকার হতে পারে।

 

কামরাঙা কখন উপকারি বা অমৃতঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে, কামরাঙার উল্লেখযোগ্য ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুলো হলো- ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট ও কপার।

বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, এসব ফাইবার বিপাক ও হজম ক্রিয়া উন্নত করে- এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, পেট কামড়ানি ও ডায়রিয়া থেকে উপশম পাওয়া যায়। তছাড়া কামরাঙা ক্যানসার এড়াতে সাহায্য করবে। এই ফলের ফাইবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ফাইবার ওজন কমাতেও সহায়তা করে।

 

এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে, যা শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনের মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হলে কোভিড-১৯ এর মতো ভাইরাস সংক্রমণ সহজেই বিতাড়িত হয়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ জনিত গলা ব্যথা কমাতেও ফলটি অবদান রাখতে পারে। কামরাঙার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সোরিয়াসিস ও ডার্মাটাইটিসের উপসর্গ প্রশমিত করতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কামরাঙার উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ও যথাযথ রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে। এতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

তবে শর্ত হল, খালিপেটে খাবেন না, বেশি পরিমাণে খাবেন না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এবং বিশেষত যাদের কিডনি রোগ রয়েছে তারা খাবেন না।

 

কামরাঙা কখন অপকারি বা বিষঃ

কোন খাবারে বহুবিধ পুষ্টি থাকলেই যে সেটা সবার শরীরের জন্য উপকারি, সেটা ভাবার কোন কারন নেই। তেমনি কামরাঙাতে বহুবিধ পুষ্টি থাকলেও এটি সকলের জন্য উপকারি নয়। বিশেষত যাদের কিডনি রোগ রয়েছে।

গবেষণায় জানা যায় যে, কামরাঙায় ক্যারামবক্সিন নামে যে বিষ রয়েছে তা কিডনি রোগকে শোচনীয় করে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সুস্থ কিডনি এই বিষকে শরীর থেকে বের করে দিতে পারে, কিন্তু এই কাজে অসুস্থ কিডনির সক্ষমতা কম। ফলে শরীরে ক্যারামবক্সিন জমতে থাকে এবং একসময় মস্তিষ্কে চলে আসে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এই বিষ বেড়ে গেলে বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। যেমন হেঁচকি, পেশির অসাড়তা, খিঁচুনি, মানসিক বিভ্রান্তি ও দীর্ঘসময় চেতনাহীনতা। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মৃত্যুরও ঝুঁকি আছে।

 

ব্রাজিলে অবস্থিত পন্টা গ্রোসা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কিডনি রোগীর পেট খালি থাকলে বেশি কামরাঙা না খেলেও বিষক্রিয়ায় ভুগতে পারেন। কামরাঙা খাওয়ার আগে প্রচুর পানি পান না করলে বা খালি পেটে থাকলে বিষক্রিয়া আরো বেড়ে যেতে পারে। এজন্য গবেষকরা পরামর্শ দেন যে, সুস্থ হলেও  কামরাঙা বেশি পরিমাণে খাবেন না, খালিপেটে খাবেন না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

উল্লেখ, কিডনি রোগের ধরন যেমনই হোক না কেন, সতর্কতাস্বরূপ কামরাঙা পরিহার করাই উত্তম। কিডনি রোগের পাশাপাশি স্নায়ুতাত্ত্বিক সমস্যা থাকলে এই ফল মুখে না নেওয়াটাই নিরাপদ।

 

পরামর্শঃ

কামরাঙা খেতে চাইলে এই তিন পরামর্শ মেনে চলুন-

১। খালিপেটে খাবেন না।

২। বেশি পরিমাণে খাবেন না।

৩। খেলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

 

তথ্যসূত্র : ওয়েব এমডি

Leave a Reply

Your email address will not be published.