সকল সুখের মূলে হ্যাপি হরমোন (Happy hormone), কিভাবে বাড়াবেন!

স্বাস্থ্য

হ্যাপি হরমোন (Happy hormone) বলতে আসলে কোন নির্দিষ্ট কোন হরমোনের কথা বলা হচ্ছেনা। যে হরমোনের ফলে আমাদের শরীর ও মন সতেজ থাকে সেই সব হরমোনকে আমরা হ্যাপি হরমোন (Happy hormone) বলি। হেলথলাইনের তথ্য অনুসারে, সাধারণভাবে কয়েক ধরনের হরমোনকে হ্যাপি হরমোন বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডোপামিন, সেরেটোনিন, অক্সিটোসিন, এন্ডোরফিন ইত্যাদি। জীবনযাপনের প্রতিটি ধাপেই বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এই হ্যাপি হরমোনের মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়।

দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের কাজের চাপে সাধারণত নিজের মনের যত্ন নিতে ভুলে যাই আমরা। সকালে উঠে হয় অফিস, নয় পড়ালেখা কিংবা সংসারের কাজ লেগেই থাকে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি চলে আসে মানসিক অবসাদ। আমরা সাধারণত শারীরিক ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করলেও মানসিক ব্যাপারটা এড়িয়ে যাই। কিন্তু এভাবে চললে একসময় দেখা দিতে পারে বড় সমস্যা।

আরও পড়ুন- Tecno Camon 19 Neo (টেকনো ক্যামন ১৯ নিও) ফটোগ্রাফির জন্য দুর্দান্ত ক্যামেরা ফোন!

রুটিন মেনে চলা, ওয়ার্কআউট করা ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস তৈরি হলে শরীরের হ্যাপি হরমোনগুলো (Happy hormone) কাজ শুরু করে। হ্যাপি হরমোনের (Happy hormone)মুক্ত নিঃসরণ নিশ্চিত করতে পারলে এ চাপ ও ক্লান্তি অনেকটা সামাল দেওয়া যায়। আসুন প্রথমে এই হ্যাপি হরমোন কী তা জেনে নেওয়া যাক-

হ্যাপি হরমোন কী

তথ্য অনুসারে, সাধারণভাবে কয়েক ধরনের হরমোনকে হ্যাপি হরমোন (Happy hormone) বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডোপামিন, সেরেটোনিন, অক্সিটোসিন, এন্ডোরফিন ইত্যাদি। ডোপামিন ‘ফিল-গুড’ হরমোন হিসেবে পরিচিত। মন ফুরফুরে ও সতেজ রাখতে এর জুড়ি নেই। কারণ তা আনন্দের অনুভূতি দিতে সক্ষম। আমাদের মেজাজ, ঘুম, ক্ষুধা ও হজমের বেশ কিছু দিক নিয়ন্ত্রণ করে সেরোটোনিন হরমোন ।

আরও পড়ুন- বন্ধুর স্ত্রীর সাথে ইলন মাস্কের প্রেমের সম্পর্ক: সংসার ভাঙ্গছে বন্ধুর!

এরপরই আসে বহুল আলচিত  ‘লাভ হরমোন’ অক্সিটোসিনের কথা। সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস, পারস্পরিক সহানুভূতি ও বন্ধনের মতো মানবীয় বিষয়ে কলকাঠি নাড়ার কাজই অক্সিটোসিনের। এন্ডোরফিন হচ্ছে ব্যথা উপশমকারী হরমোন, যা প্রবল মানসিক চাপের সময়ও নিঃসৃত হয়। আমরা যখন ব্যায়াম করি বা ধ্যান করি, তখন এর নিঃসরণ বেড়ে যায়। কেউ যখন সুখ বা আনন্দ অনুভব করে, তখন এর উৎপাদন বেড়ে যায়।

নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বাড়ানোর জন্য সাপ্তাহিক রুটিন বানিয়ে নেওয়া যায়। আগে খুঁজে বের করতে হবে কোন বিষয়গুলো স্ট্রেস কিংবা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আপনার জীবনে । অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সঠিক খাবার, ঘুম, ব্যায়াম—সব ভেস্তে যাচ্ছে। সুতরাং সপ্তাহের রুটিনে ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিনের মতো হ্যাপি হরমোন উৎপাদন করতে উৎসাহিত করে—এমন কাজ যোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন- 

প্রাকৃতিকভাবে এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখার কিছু কৌশল আছে। আসুন জেনে নেই কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।

প্রাকৃতিকভাবে হ্যাপি হরমোনের (Happy hormone) ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল –

  • ঘুম
  • ব্যায়াম
  • প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো
  • সুখস্মৃতি স্মরণ করা
  • খাবার
  • কৃতজ্ঞতা অনুশীলন
  • সাপ্তাহিক পরিকল্পনা

ঘুম

সপ্তাহে একটি রুটিন তৈরি করা উচিত যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রতিদিন সাত ঘণ্টা ঘুম জরুরি। উপযুক্ত ঘুম শরীরে ডোপামিন নিঃসরণ করতে এবং কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমাতে সাহায্য করে। বেলা তিনটার পর ক্যাফেইন গ্রহণ এড়ানো, প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া বা রাতের খাবারের পরে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা—এ ব্যাপারগুলোর দিকে খেয়াল রাখা উচিত।

 

 

ব্যায়াম

নিয়মিত ব্যায়াম এন্ডোরফিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিনের উৎপাদন বাড়ায়। মানসিক শক্তি, ভালো মেজাজ এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার অনুভূতি দেয় ব্যায়াম। ব্যায়াম শুধু ওজন কমানোর জন্য বা পেশি তৈরির জন্য নয়, এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও বিশাল ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে যোগব্যায়ামও খুব ভালো কাজে দেয়।

প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো

প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটালে আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি জাগে। তখন শরীরে ডোপামিন ও এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। মনোবিজ্ঞানী ও আর্ট থেরাপিস্ট জাহিদ হাসান নীল পরামর্শ দিয়েছেন- সপ্তাহান্তের রুটিনে এক দিন অন্তত চেষ্টা করতে হবে প্রিয় কোনো মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে। তিনি বলেন, সারা দিন পর বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো যায়। আড্ডা, গান, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মতো কাজগুলো হ্যাপি হরমোন উৎপাদন করে।

সুখস্মৃতি স্মরণ করা

মেজাজ ও স্মৃতির মধ্যে মস্তিষ্কে একটি মিথস্ক্রিয়া আছে। ইতিবাচক স্মৃতিগুলো মনে করা যেতে পারে। এতে সেরটোটিন হরমোন নিঃসৃত হতে সাহায্য করবে। যেকোন সুখস্মৃতি মনে করা যায়, যা আনন্দ অনুভূতি দেয়।

খাবার

প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খেলে হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক খাবারগুলো যোগ করতে হবে। দই, চিয়া বীজ, পালং শাক, সবুজ মটরশুঁটি, রসুন, আমন্ড, আদা, কলা, বেরি, ডার্ক চকলেট ইত্যাদি প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার।

কৃতজ্ঞতা অনুশীলন

কৃতজ্ঞতা মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে সক্রিয় করে। প্রতিদিন কী কী বিষয়ে আমরা প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞ বা অন্যের কাছে কৃতজ্ঞ, তা লিখে রাখা যেতে পারে। তিনটি বিষয়ে লিখলেই হবে। শুরু করে দেখা যেতে পারে। ভালোও তো লাগতে পারে!

সাপ্তাহিক পরিকল্পনা

প্রতিদিন রুটিনে এমন কিছু রাখতে হবে, যা করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এক সপ্তাহের সম্ভাব্য কাজগুলোও লিখে রাখলে ভালো। তাহলে সারা সপ্তাহ গুছিয়ে চলতে সুবিধা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.