নতুন মোবাইল কেনার আগে যা জানা দরকার

তথ্যপ্রযুক্তি
আমাদের সকলের খুব শখের একটি বস্তু হচ্ছে মোবাইল ফোন। এটি আমাদের কাছে নিত্যদিনের সঙ্গী। আমাদের সারা দিনের সুখে-দুঃখে,হাসি-কান্নায়, সবার খোঁজখবর নেওয়ার কাজে মোবাইল অত্যাবশকীয় বস্তু। মোবাইল দিয়ে কেউ কাজ করে থাকে, কেউ পড়ালেখার কাজে ব্যবহার করে থাকে, কেউবা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। তাই এই শখের মোবাইল কিনার আগে আমাদের কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে। চলুন মোবাইল কেনার আগে যা জানা দরকার সেসব বিষয়গুলো নিচের আলোচনায় জেনে নেই।
ডিজাইন বাছাই করুন
ডিজাইন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, আপনার ব্যবহৃত ফোনটি দেখতে সুন্দর না হলে বেশি টাকা দিয়ে কিনার মানেই হয়না। আগে মোবাইলটি দেখতে সুন্দর হতে হবে। তাই নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে ডিজাইন বেছে নিন।
ফোনের অপারেটিং সিস্টেম: অ্যানড্রয়েড,  iOS  বা অন্যান্য
নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই অপারেটিং সিস্টেম বাছাই করে নিতে হবে। কারণ মোবাইল ফোনের সফটওয়্যার রিলেটেড সকল এক্সপেরিয়েন্স অপারেটিং সিস্টেমের উপরই নির্ভর করে থাকে।
অ্যানড্রয়েড
বর্তমানে বিশ্ব বাজারে রাজত্ব করছে অ্যানড্রয়েড সিস্টেম। iOS সিস্টেম এর তুলনায় এটি মার্কেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি হওয়ার কারণে অনেক কোম্পানি এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তাছাড়া এটির ব্যবহার বেশ ফ্লেক্সিবল। এতে আধুনিক সব ধরনের ফিচার দিনে দিনে আপডেট হচ্ছে। তাই অ্যাপ ডেভেলপাররা তাদের অ্যাপ তৈরিতে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকেই বেছে নিচ্ছেন।
iOS অপারেটিং সিস্টেম
আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে iOS অপারেটিং সিস্টেম। আইফোন এই অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি মার্কেটে ২ নম্বরে অবস্থান করছে।
তাই নতুন মোবাইল ফোন কিনার আগে আপনার পছন্দের অপারেটিং সিস্টেমটি বেছে নিন।
স্মার্টফোন প্রসেসর সম্পর্কে জানুন
সিস্টেম অন চিপ বা প্রচলিত সহজ কথায় বলে সিপিইউ। CPU হচ্ছে স্মার্টফোনের ব্রেইন। এর মাধ্যেই ইন্টিগ্রেটেড থাকে পছন্দের স্মার্টফোনের সকল প্রসেসর, গ্রাফিক প্রসেসর, ক্যাশ ও এছাড়াও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওয়্যারলেস মডিউল। এটাকে চিপসেটও বলা হয়ে থাকে। আবার দেখা যায় কেউবা শুধু প্রসেসরও বলে থাকে। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে মোবাইল ফোনের জন্য প্রসেসর কতটা গুরুত্ব।
স্মার্টফোনের সকল ডাটা প্রসেস করার কার্যক্রম প্রসেসরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রসেসর কতটুকু ভালো না খারাপ তা নির্ভর করে প্রসেসরের ক্লক স্পিড, কোর সংখ্যা ও আরো কয়েকটি বিষয়ের উপর। একটা সময় আমরা শুধু কল করার জন্য মোবাইল ব্যবহার করতাম। এরপর যুক্ত হয় অনলাইন ইন্টারনেট ব্রাউজিং।
কিন্তু এখনকার স্মার্টফোনগুলো শুধু কল কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন আরো অনেক কাজ আমরা মোবাইল দিয়ে সম্পাদন করে থাকি। আর এজন্যই ফোনে শক্তিশালী প্রসেসরের দরকার। তাই নতুন মোবাইল কেনার সময় অবশ্যই প্রসেসরের বিষয়টি মাথার রাখবেন।
ফোনের স্ক্রিন সাইজ বাছাই করুন
নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে স্ক্রিন সাইজ বাছাই করে নিন। অনেকেই বলেন যে কোন ফোন ভালো? কোন মোবাইল সবচেয়ে বেশি ভালো? স্ক্রিনের ক্ষেত্রে সেটা আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে থাকে। আপনি বড় স্ক্রিনের মোবাইল বেছে নিলে ভিডিও দেখতে আপনার সুবিধা হবে। তবে আবার সেটা বহন করার ক্ষেত্রে আপনার ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই আপনার পছন্দ অনুযায়ী স্ক্রিন এর সাইজ বাছাই করুন।
স্মার্টফোনের ওজন
নতুন মোবাইল ফোন কেনার সময় ওজনের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আপনার স্মার্টফোন খুব বেশি ভারী হয়ে গেলে এটা বহন করা কষ্টসাধ্য হবে কিংবা ব্যবহার সাচ্ছন্দ্যের হবে না।
তবে মনে যে রাখবেন, মোবাইল যত বড় হবে ওজনো তত বেশি হতে থাকবে। এছাড়া ব্যাটারির চার্জ ধারণ ক্ষমতা বেশি হলেও ব্যাটারির ওজন বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে মোবাইলের ওজনো বেড়ে যায়। তাই সব দিক বিবেচনা করে সবচেয়ে ভালো মোবাইল কিনে নিন।
মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে
নতুন মোবাইল কিনার আগে অবশ্যই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এর মানের দিক চিন্তা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো মানের ডিসপ্লে হচ্ছে ১০৮০ পি বা (১৯২০x১০৮০) পিক্সেল।
তবে ১০৮০ পি ডিসপ্লের মোবাইলের দাম খুব বেশি হবে। তাই মোবাইল কেনার আগে বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি বা ভিডিও কোয়ালিটি দেখে নিবেন। তবে আপনার নির্ধারিত মূল্যে ১০৮০ পি ডিসপ্লের মোবাইল কিনতে না পারলে ৭২০ পি মোবাইল কিনতে পারেন। এটির দাম তূলনামূলক কম পড়বে।
মোবাইলের মূল্য
নতুন মোবাইল কেনার আগে আপনার মোবাইলের জন্য দাম ঠিক করুন। কত টাকা বাজেটের মধ্যে একটু ভালো মোবাইল পাবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বলব বর্তমানে ১০০০০ থেকে ২০০০০ টাকায় খুব ভালো মানের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
তাই আপনার বাজেট ১০০০০ থেকে ২০০০০ টাকা হলে পর্যাপ্ত হবে। কিন্তু আপনি চাইলে বাজেট আরো বেশি রাখতে পারেন।
র‍্যাম বা RAM সম্পর্কে জানুন
র‌্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি, সংক্ষেপে র‌্যাম (RAM) হল এক ধরনের কম্পিউটারের উপাত্ত (ডাটা) সংরক্ষণের মাধ্যম।
র‍্যাম প্রতিটি মোবাইলের স্পীড বাড়িয়ে দেয়। যত বেশি র‍্যাম থাকবে তত স্পীড। তাই নতুন মোবাইল কেনার আগে অন্তত ২ জিবি র‍্যামের মোবাইল কেনার চেষ্টা করুন।
বর্তমানে বাজারে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো ৩ জিবি ৪ জিবির মোবাইল ছাড়ছে। তবে বেশি র‍্যামের মোবাইল কিনে অযথা টাকা নষ্ট করে লাভ নেই। ৩ জিবি র‍্যাম হলেই আপনার ফোনের জন্য তা পর্যাপ্ত।
রোম বা ROM
ROM (Read only Memory) হচ্ছে মোবাইলের ইন্টারনাল মেমরি। কেউ বা এটাকে সেট মেমরিও বলে থাকে। মোবাইলের রম খুব কম হয়ে থাকলে সেট রান করতে সমস্যা হয়। তাই মোবাইল ফোনের ভালো স্পীড পেতে হলে র‍্যামের পাশা পাশি ROm দরকার আছে।
বাজারে ২ জিবি, ৪ জিবি, ৮ জিবি, ১৬ জিবি, ৩২ জিবি, ৬৪ জিবি ১২৮ জিবি এমনকি ২৫৬ জিবি রমের মোবাইলো পাওয়া যায়। তবে ১৬ জিবির কম রমের মোবাইল না কিনাই ভালো হবে।
মোবাইল থ্রি-জি নাকি ফোর-জি
বর্তমানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে থ্রি জি(3G) ও ফোর জি(4G) এর ব্যবহার। ৩ জি হচ্ছে থার্ড জেনারেশন মোবাইল নেটওয়ার্ক আর ৪ জি হচ্ছে ফোর্থ জেনারেশন মোবাইল নেটওয়ার্ক।
আপনার মোবাইল ফোনে ৩ জি রম সাপোর্ট করলে আপনি এক ধরণের ইন্টারনেট স্পীড পাবেন। আর ৪ জি থাকলে তার চেয়েও অনেক বেশি মানের ইন্টারনেট স্পীড পেয়ে যাবেন। আর স্পীড ৫ জি হলেতো কথাই নেই।
ক্যামেরা ফোন দেখে নিন
বর্তমানে সময়ে মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা ছবি তুলি বা ভিডিও করে থাকি। কেউবা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে ইউটিউব থেকে আয় করছেম। তাই আপনার মোবাইলের ক্যামেরা কোয়ালিটি ভালো হওয়া চাই।
নতুন মোবাইল কেনার আগে মোবাইলের ক্যামেরার পিক্সেল দেখে নিবেন। প্রয়োজনে ২-৩ কপি ছবি তুলে দেখে নিবেন। ভিডিও করেও দেখে নিতে পারেন।
ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা
মোবাইল ফোন কেনার আগে ব্যাটারির ধারণকমহমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে আপনার মোবাইল তত বেশিক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে সক্ষম হবে হবে। তাই ভালো ব্যাটারি ব্যাক আপ পেতে হলে চেষ্টা করবেন ৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের উপরের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির মোবাইল কিনতে।
৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারির ফোন দিয়ে আপনি নরমাল ব্যবহারে ১ দিন চালাতে পারবেন। আর তার চেয়ে বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি হলে আরো বেশি সময় ধরে চার্জ থাকবে।
অনলাইনে ফোনের রিভিউ দেখে নিন
যে মোবাইলটি কিনতে চান তার সম্পর্কে বিস্তারিত অনলাইনে রিভিউ দেখে নিন। তাহলে যারা মোবাইলটি কিনে ব্যবহার করেছে আপনি তাদের কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা জানতে পারবেন। আর সহজেই মোবাইলটি সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট পেয়ে যাবেন।
ভালো ব্র‍্যান্ড দেখে মোবাইল কিনুন
সব সময় চেষ্টা করবেন ভালো ব্র‍্যান্ডের আসল মোবাইল কিনার জন্য। তাহলেই আপনি সেরা ফোনটি পেয়ে যাবেন। এজন্য অবশ্যই কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত শো রুম থেকে মোবাইলফো কিনুন। বাহিরের দোকান থেকে মোবাইল কিনলে নকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৬০-৭০%। তাই এধরজের দোকান এড়িয়ে চলুন।
দাম একটু বেশি নিলেও শো রুম থেকেই মতুন মোবাইল কিনুন। চিন্তা করুন, আপনি ১৩০০০ টাকার মোবাইল কিনতে পারবেন। কিন্তু ৫০০ টাকা বাঁচাতে ফিয়ে নকল মোবাইল কিনলে ১৩০০০ টাকা পুরাই লস। তাই আপনি কি ইচ্ছা করে লস করতে চাইবেন?
যে মোবাইল কোম্পানির ফোন ভালো
কোন মোবাইল কোম্পানির ফোন ভালো হবে? এটা বলা খুব মুশকিল। কারণ বিভিন কোম্পানি বা ব্র‍্যান্ড আছে যাদের মোবাইল অনেক ভালো মানের। কিন্তু সাফল্য নেই।
তাই দুই একটির নাম বলে দেয়া ঠিক নয়। অনেক মোবাইল কোম্পানির ফোন খুবই ভালো কোয়ালিটির হয়ে থাকে। নিচে কিছু সচরাচর জনপ্রিয় মোবাইল ব্র‍্যান্ডের নাম দেওয়া হলো হয়েছে।
স্যামসাং, আইফোন, শাওমি, সিম্পনী
এছাড়া নতুন মোবাইল কেনার আগে মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.