Online Income

অনলাইন থেকে আয় করার সেরা ৫ টি উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা
বর্তমানে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ অনলাইন ইনকাম এর মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। অনলাইন ইনকামের সকল আদ্যোপান্ত জানতে এই লেখাটি আপনার সহায়ক হতে পারে।

 

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল। বিশ্বে মানুষের এই প্রযুক্তি ও অনলাইন নির্ভর মানসিকতা ইন্টারনেটে ইনকামের অনেক দার উম্মোচন করে দিয়েছে।

 

খুব সহজেই মানুষ ভালো একটা পরিমানের অর্থ অনলাইন থেকে আয় করতে পারছে। আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন এই অনলাইন ইনকাম এর উপরে নির্ভরশীল।

 

আপনি চাইলেই খুব সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আয় করতে পারবেন। আপনি কি সেটা চান? আপনার উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই লেখা।

 

এই অনুচ্ছেদটিতে আমরা অনলাইন ইনকাম এর আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করবো এবং সাথে সাথে অনলাইন থেকে আয়ের সেরা ৫ টি উপায় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। যদি আপনি এই সেক্টরে নতুন হয়ে থাকেন, এই অনুচ্ছেদটি আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সহায়তা করবে।

 

অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার বিষয়টি আজ থেকে ১০ বছর আগে যতোটা কঠিন ছিল, বর্তমান সময়ে তার থেকে অনেক সহজ। হাটি হাটি পা পা করে বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়া আমাদের এই প্রাণের বাংলাদেশে বিভিন্ন সমস্যার কারনে আজ থেকে ১০ বছর আগেও অনলাইনে ইনকাম করার বিষয়টি কেউ ভাবতে পারতো না।

 

কিন্তু সেই স্বপ্ন আজকে বর্তমান বাংলাদেশে সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। অনলাইন থেকে বর্তমানে মানুষ শুধু ইনকাম নয়; শুধুমাত্র এই অনলাইম ইনকাম দিয়েই স্বচ্ছলতা আসছে অনেক পরিবারে।

 

বর্তমান বিশ্বে এখন অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই অধিকাংশ কাজ অনলাইনে করতে হচ্ছে। আপনি আগে যদি কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে যেতেন, সেটা আপনাকে নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ফর্ম নিতে হতো।

 

কিন্তু বর্তমানে আপনি দেশের যে কোনো জায়গা থেকেই অনলাইনে ভর্তি ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রেও এখন একই অবস্থা। এসব বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন কাজ অনলাইনে সম্পাদনের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সব কাজ করার জন্য শুধু আপানার প্রয়োজন একটি ডিজিটাল ডিভাইস।

 

এখানে আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারবো না যে আপনি শুরুতেই লাখ লাখ টাকা অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।  তবে হ্যা আপনার যদি ধৈর্য থাকে এবং আপনি যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন, সেক্ষেত্রে দেখাযাবে অনলাইন থেকে অনেক বড় পরিমানের অর্থ প্রতিমাসে আপনি ইনকাম করতে পারবেন সহজেই।

 

আপনি কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করবেন?
বাংলাদেশে অনলাইন ইনকাম এর বিষয়টি আমাদের সমাজের মানুষের কাছে নতুন একটি বিষয় হলেও এটি কিন্তু সারা পৃথিবীতে শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। সত্যি কথা বলতে ঘরে বসে স্বাধীনভাবে নিজের ক্যারিয়ার নিজেই গড়ে নেয়ার এ সুযোগ কিন্তু খুব কম পেশায় পাওয়া যায়।
তাছাড়াও অনলাইন ইনকাম করার জন্য আপনার বিশেষ কিছুই প্রয়োজন হবে না। আপনি আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজেই কোনো কাজে দক্ষ হয়ে সেটা থেকে নিয়মিত আয় করতে পারেন।
আপনি ছেলে বা মেয়ে, ছাত্র, চাকরিজীবী যেটাই হন না কেন, আপনি এই সেক্টর থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি একজন ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে আপনার পড়ালেখার খরচ যদি নিজেই জোগাড় করতে পারেন, তাহলে সেটা কি মন্দ হবে?
প্রতিদিন দেখাযায় অনেক সময় ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিতে ব্যায় করেন। আপনি চাইলে এই সময় গুলো শুধু চ্যাটিং আর নিউজফিড ঘেটে সময় নষ্ট না করে এখান থেকেও আয় করা সম্ভব।
এছাড়া আপনার পড়া লেখার ফাকে ফাকে বা আপনার অবসর সময়ে যদি এই কাজগুলো করেন তাহলে দেখবেন সময়ও নষ্ট হবে না এবং পাশাপাশি কোনো খারাপ দিকেও মন যাচ্ছে না।
যখন আপনি নিজের খরচ নিজেই জোগাড় করতে পারবেন, তখন দেখবেন আপনার নিজের ভেতরে অন্যরকম একটা সন্তুষ্টি এবং অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করছে।
তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন এই কাজের ভেতরে ঢুকে পড়ার। অনলাইন ইনকাম শুরু করতে আপনার কিছু লাগবে না।
শুধু মাত্র একটি ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট সংযোগ এবং কাজ করার ইচ্ছা বা মানুষিকতা। আপনি কিভাবে কি করবেন তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
অনলাইন আয় এর সেরা ৫ টি উপায়
বর্তমানে অসংখ্য মাধ্যম আছে অনলাইনে যেখান থেকে আপনি আয় করতে পারবেন। এদের মধ্যে থেকে সেরা ৫ টি উপায় নিচে দেয়া হলোঃ
১। ব্লগিং (Blogging)
ব্লগিং অনলাইনে আয়ের বেশ পুরাতন কিন্তু অনেক কার্যকরী একটা মাধ্যম। এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো অঙ্কের একটা টাকা প্রতি মাসেই আয় করা সম্ভব।
ব্লগিং মূলত একটি ডিজিটাল নিউজ পেপার এর মতো। আপনি আপনার মন মতো জানা কোনো একটি বিষয় নিয়ে লিখবেন। যার ওই বিষয়টি জানার প্রয়োজন সে এসে পড়ে যাবে।
আপনি যে এখন লেখাটি পড়ছেন এটিও একটি ব্লগ। অতএব বুঝতেই পারছেন বিষয়টা কি। লেখালেখিতে যদি আপনার খুব আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই এখান থেকে আয় করতে পারেন।
আপনার যে বিষয়ের প্রতি আগ্রহ, জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা আছে সে বিষয়ে ব্লগিং করলে তা সবথেকে বেশি কাজে আসবে।
তাই আপনি যে বিষয়ে ভালো পারদর্শী সেই নিশ (niche) নিয়ে কাজ করতে পারেন। নিশ (niche) বলতে মূলত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে বোঝায় যেমন, টেকনোলজি, খেলাধুলা, আইন, রান্নাবান্না, জীবনী, ভ্রমন, সাহিত্য ইত্যাদি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ভ্রমনের ক্ষেত্রে আপনি কোনো এক জায়গায় ভ্রমনে গিয়ে কি কি অভিজ্ঞতা হয়েছিলো সেটা নিয়ে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল লিখে ফেলতে পারেন।
এখন মূল কথা হলো আপনি কোথায় লেখা লিখি করবেন। এক্ষেত্রে সব থেকে ভালো হয় আপনি যদি আপনার নিজের একটি ব্লগ সাইট বানিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে অনেক সহজে কোনো খরচ ছাড়াই ব্লগ সাইট বানানো যায়। তবে ফ্রি সাইটগুলো কে মানুষ একটু কম বিশ্বাস করে থাকে।
তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে প্রথমে কিছু টাকা খরচ করে ডোমেন এবং হোস্টিং কিনে আকর্ষণীয় একটা সাইট তৈরি করুন। এরপর সেখানে লেখা লেখি শুরু করে দিন। দেখবেন এক সময় বেশ ভালো ফল পাচ্ছেন।
একটি ডট কম ডোমেন কিনবেন সাথে দুই জিবি হোস্টিং এবং একটি ফ্রি থিম নিবেন। এই তিনটা জিনিসই আপনার ব্লগিং শুরু করার জন্য যথেষ্ট হবে। এক্ষেত্রে আপনার দুই হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে।
এইভাবে খরচ করে ব্লগিং শুরু করলে আপনার ব্র্যান্ডিং টাও ভালো হবে এবং আয়ের এর পরিমানও অনেক বেশি হবে ফ্রি সাইটের তুলনায়। আর ভবিষ্যতে আপনার এই সাইট এর দামও অনেক হবে হয়ে যাবে। ক্ষেত্র দেখা যায় বিশেষ একটি ভালো সাইটের মূল্য কয়েক লক্ষ্য পর্যন্ত হয়ে যায়।
আর ফ্রি সাইট গুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে পুরো ডোমেইন দিবে না। আপনি সেক্ষেত্রে পাবেন শুধু সাব ডোমেইন। এভাবে ব্লগ সাইট খোলার ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই ব্লগস্পট দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই একটি ব্লগসাইট খুলতে পারেন।
আর এক্ষেত্রে আপনি মোবাইল এবং কম্পিউটার উভয় মাধ্যম দিয়ে সহজেই কাজ করতে পারেন। তাই যারা মোবাইল দিয়ে অনলাইন ইনকামের কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও এটা সম্ভবত একটি সেরা সুযোগ হতে পারে।
তবে এর পাশাপাশি আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর কিছুটা ধারনা থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার সেই ব্লগে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক বা ভিজিটর আনতে পারবেন। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ইনকামের পরিমাণও বহুগুণে বাড়িয়ে নিতে পারবেন খুব সহজেই।
২। ফ্রিলান্সিং (Freelancing)
অনলাইনে যে পদ্ধতিতে মানুষ সবথেকে বেশি ইনকাম করে সেটি হলো ফ্রিলান্সিং। বাংলদেশের বেকারত্বের পরিমাণ কমাতে এই খাতটি অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে এবং সাথে সাথে অনেক দক্ষ মানুষ এই খাতে কাজ করে আমাদের দেশকে বিশ্বের কাছে রিপ্রেসেন্ট করছে ।
সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। আসলে বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশের মানুষ জানতোই না যে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটা দেশ আছে। সেসব দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করছে আমাদের দেশের সফল ফ্রিল্যান্সারগণ।
এর সাথে প্রতি মাসে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স তএনে দিচ্ছে বাংলাদেশে তারা। তাই ফ্রিলান্সিং পেশায় যোগদান করে আপনি টাকা আয় করার পাশাপাশি এই গৌরবেরও অংশীদার হতে পারেন।
এখন আসি কিভাবে এই কাজ শুরু করবেন। ফ্রিলান্সিং বলতে মুলত বিভিন্ন ধরনের কাজকে বুঝায়, যে কাজে আপনি ভালো দক্ষ সে কাজটি একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে অন্যকে করে দেয়া।
এখানে আপনার কাজ করার এবং আপনার যে ইমপ্লয়ার তার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নাই। আপনি ঘরে বসেই আপনার ইমপ্লয়ার এর কাজ সম্পাদন করতে পারবেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট বিভিন্ন দেশের হবে। সময়ের সাথে সাথে এর পরিবর্তনও হতে থাকবে।
যাইহোক, সবার প্রথমে এখানে আপনার দরকার একটি নির্দিষ্ট বিষয় উপর দক্ষতা। এটা হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, হতে পারে ফটো এডিটিং, হতে পারে ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব সাইট মেকিং, কপি রাইটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, লোগো ডিজাইন ইত্যাদি।
এখান থেকে যেকোনো একটি বিষয়ে আপনি দক্ষতা অর্জন করতে পারলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। আপনি যদি একাধিক কাজ পারেন সেক্ষেত্রে আপনার টাকা আয়ের সুযোগও বেশি হয়ে যাবে।
কোনো বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পর আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং সাইটে (যেমন- Fiver, Freelancer, Upwork, ইত্যাদি)  আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এর পরে আপনি কোন কোন কাজে পারদর্শী সেগুলো ওই সাইটে উল্লেখ করে দিতে হবে।
এখানে একটা বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকাম এর সাইট অনেক রয়েছে। কিন্তু সঠিক ও ভালো মানের ফ্রিল্যান্সিং সাইট খুব একটা নেই।
তাই যেকোনো ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই ভালো ভাবে সাইটটি দেখে নিবেন। যদি সব কিছু দেখে আপনার কাছে ভালো মনে হয় কেবল তখনি আপনি সেই সাইটে কাজ করা শুরু করবেন।
তারপর, আপনি যে কাজে পারদর্শী তার প্রমানের জন্য আপনার আগে সম্পাদিত কোনো কাজ থাকলে সেটা পোর্টফোলিও আকারে ওই ওয়েবসাইটে সাজিয়ে রাখতে হবে। এতে আপনার ক্লায়েন্ট এসে আপনার পোর্টফলিও দেখে পছন্দ করলে আপনাকে কাজ করতে দিবে।
এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে পরামর্শ থাকবে অবশ্যই ভালো একটা পোর্টফলিও তৈরি করার জন্য। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নতুন হিসাবে ওই পোর্টফোলিও গুলো আপনাকে কাজ পেতে অনেকটা সহায়তা করবে।
প্রথম দিকে আপনাকে কাজ পেতে একটু অসুবিধা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার পরিচিত কোনো ফ্রিলান্সার থাকে তার রেফারেন্স নিতে পারেন।
এই রেফারেন্স এর মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পরে আপনার প্রথম ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে ভালো একটা রিভিউ দিবে, তখন থেকে দেখবেন কাজ আসতেই থাকবে।
এছাড়াও প্রথমে আপনার কাজ রিলেটেড বিভিন্ন কন্টেস্টে অংশগ্রহন করতে পারেন। সেখান থেকেও ক্লায়েন্ট পেতে পারেন। আমাদের মতে ফ্রিলান্সিং করার ক্ষেত্রে প্রথম কাজটা পাওয়াই একটু কঠিন।
৩। ইউটিউবিং (Youtubing)
আমাদের বাংলাদেশে অনেক বড় বড় ইউটিউবার আছে। এদের মধ্যে কারো কারো মাসের ইনকাম ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আপনিও চাইলেই ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।
এইসব ভিডিও বানাতে আপনার ক্যামেরা না থাকলেও হবে। প্রথমে অনেক বড় বড় ইউটিউবার তাদের মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে শুরু করে তাদের ইউটিউব যাত্রা। তারপরে তারা সফল হওয়ার পরে এখন তাদের কাজে দামি দামি গেজেট ব্যবহার করে।
আপনার ইউটিউবের কন্টেন্ট যদি ভালো থাকে, প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে যদি আপনি ভিডিও তৈরী করতে পারেন, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আপনি অনেক ভিউয়ার পেয়ে যাবেন।
তবে এক্ষেত্রে আপনাদেরকে একটি ছোট্ট বিষয় টিপস দিয়ে রাখি। আপনারা যদি সত্যিকার অর্থেই প্রফেশনালভাবে ইউটিউবে কাজ করতে করতে চান তাহলে ভিডিওর অডিও ও ভিডিও এডিটিং খুবই ভালো ভাবে জানতে হবে।
এরপরে আপনার চ্যানেলে সর্বনিম্ন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়ে গেলে এবং ন্যূনতম ভিউ টাইম হয়ে গেলে আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর পর থেকে প্রতিটা ভিডিওতে মনিটাইজেশন একটিভেট করে নিলেই আপনার ইউটিউব থেকে ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।
এছাড়াও বর্তমানে ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন জায়গা থেকে স্পন্সরের মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারেন। কোনো একসময় দেখা গেলো কোনো একটা কোম্পানির কোনো একটা পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য আপনার ভিডিও তে তার ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য বললো। আপনি এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে আপনাকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সে পেমেন্ট করে দিবে।
৪। ড্রপশিপিং (Dropshipping)
Dropshipping অনলাইন ব্যবসার অন্তর্গত একটি কাজ যার মাধ্যমে খুব সহজেই অনেক টাকা ইনকাম করা যায়। চলুন প্রথমেই জেনে নেই ড্রপশিপিং আসলে কি। একটা উদাহরন দিয়ে বুঝালে আপনি খুব সহজেই বুঝবেন।
ধরুন, আপনার এলাকায় পরিচিত একজন ব্যক্তি কোনো একটা পণ্য তৈরি করে সেটা বাজারে ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখলেন যে এই পন্যটিই শহরে বড় বড় মার্কেটে অথবা কোনো ই-কমার্স সাইটে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এরকম কিন্তু সচরাচর আমাদের দেশে হয়েই থাকে। কোনো একটা সবজি কৃষকদের থেকে ১০ টাকা কেজি মূলে কিনে বড় বড় বাজারে ওইগুলো ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
এক্ষেত্রে আপনি নিজেই বড় একটি E-Commerce সাইটে প্রোফাইল খুলে ওই পন্যটি বিক্রি করতে পারেন। আপনি আপনার এলাকার যে উৎপাদনকারী আছে তার কাছ থেকে পণ্য টি ৪০০ টাকায় কিনে সেটি আপনার প্রোফাইলে ১১০০ টাকায় বিক্রি করে দিলেন।
এতে একটি পন্যেই ৭০০ টাকা লাভ করতে পারতেছেন।  অথবা আপনি যদি ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন তাতেও আপনার ৫০০ টাকা লাভ থেকে যাচ্ছে। এটিই মুলত ড্রপশিপিং। আপনার এলাকায় যদি এরকম কোনো সুযোগ থেকে থাকে আপনার অবশ্যই উচিৎ সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগানো।
৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক জনপ্রিয় একটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আমাদের বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এটা সহজ একটি মাধ্যম। কিন্তু সাধারন মানুষের মধ্যে অনেকেরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা না থাকার কারনে এই কাজে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করতেছে না। আসুন বিষয়টা একটু সহজে বুঝে নেই।
বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার E-Commerce সাইট রয়েছে। এদের ভেতরে অনেকগুলো সাইট আবার সারা বিশ্বেই পন্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এইসব ই-কমার্স সাইটগুলোতে প্রত্যেকটাতে Affiliate Marketing নামে একটি সেকশন রেখেছে।
আপনি খুব সহজেই সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। তারপর আপনার একটা ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে হবে বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে। এরকম গ্রুপ আমাদের প্রতিটি মানুষেরই আছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলোতে।
এখন ওই E-Commerce সাইট থেকে আপনি বিভিন্ন পন্যের বিবরন সহ ওই লিঙ্কটি কপি করে বিভিন্ন গ্রুপে পাঠাতে হবে। এবার সেখান থেকে ওই লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেও পণ্যটি কিনে তাহলে আপনি সেটার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমানের একটি কমিশন পাবেন।
এক্ষেত্রে আপনার কমিশনের জন্য পণ্যটির দাম বাড়াতে হবে না। পণ্যটির আসল যে দাম দেয়া আছে সেটি দিয়ে  মানুষ কিনতে পারবে আপনার পাঠানো লিঙ্ক থেকে।
তবে এই ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং সর্ম্পকেও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে।
এভাবে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব হয় যদি আপনি ভালো একটি কমিউনিটি তৈরি করে নিতে পারেন।
বর্তমানে অ্যামাজন এর Amazon Affiliation Program বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সারাবিশ্বে।
শেষ কথা হচ্ছে
Online Income বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি বিষয় যা ঘরে বসে ইনকাম এবং নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক এখন বসে না থেকে এই পথে নেমেছে। যাহোক, এই ছিলো মূলত আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়।
বর্তমানে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে অনেক মানুষই অনলাইন ইনকামের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের অনলাইন ইনকাম সাইটগুলোর মধ্যেও অনেক ভালো ভালো সাইট রয়েছে যেখানে আজকাল বেশ ভালো করছে।
নিজে নিজে একটু কষ্ট করে কিছুটা রির্সাচ করলেই আপনি অনলাইন ইনকাম সর্ম্পকে আরো বিস্তারিত জানতে পারবনে। মোটামুটি এই হচ্ছে অনলাইন ইনকাম এর হাতেখড়ি বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা।
আমরা এখানে অনলাইন ইনকাম এর সেরা ৫ টি উপায় এবং বিভিন্ন অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। এখন সিদ্ধান্ত নেবার পালা আপনার যে আপনি কোন পদ্ধতিতে কাজ করবেন।
আশা করি এই ব্লগটিতে আলোচিত সকল বিষয়ই আপনারা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পেরেছেন। এরপরেও যদি কোনো বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থেকে যায় সেটা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। আর এই আর্টিকেলটি যদি আপনার একটু হলেও উপকারে এসে থাকে তাহলে প্রিয়জনদের কাছে এটা শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার অনলাইন যাত্রা শুভ হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.